• বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন

অসুস্থ হলেও হাজিরা ছাড়া বেতন দেওয়া হয় না সিলেটের চা শ্রমিকদের

স্টাফ রিপোর্টার / ১৭২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫

আমরা চা শ্রমিকরা সারা বছর রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করি। অন্তঃসত্ত্বা হলেও চা বাগানে কাজ করি। কিন্তু অসুস্থ হয়ে এক দিনের ছুটি নিলেও বাগানের অফিসে তিন ঘণ্টা বসে হাজিরা দিতে হয়। তা না করলে বেতন কেটে দেয়। এখন একজন শ্রমিক প্রেসার বেড়ে অসুস্থ হলে তো তার বিছানায় শুয়ে বিশ্রাম করার কথা। কিন্তু অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী অবস্থা হলেও বাবুরা অফিসে ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বসিয়ে রাখেন।’

সম্প্রতি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংস্থা এথনিক কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের আয়োজনে সভায় (একডো) নিজেদের ওপর ঘটে যাওয়া এমন অবস্থার কথা তুলে ধরেন দলদলী চা বাগানের শ্রমিক মাধুরী দাশ।

নগরীর মির্জাজাঙ্গালের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় চা শ্রমিকরা তাদের দুঃখ দূর্দশার কথা তুলে ধরেন।

একডো বর্তমানে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অক্সফাম ইন বাংলাদেশের যৌথ সহযোগিতায় ‘লিডারশিপ ডেভলপমেন্ট অফ টি লেবার ওমেন ওয়ার্কার অন দেয়ার রাইটস’ শিরোনামে নারী চা-শ্রমিকদের মধ্যে নেতৃত্ব বিকাশ এবং তাদেরকে অধিকার সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চা শ্রমিক মাধুরী দাশের মতো নিজেদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া আরও বিভিন্ন অমানবিক ঘটনা তুলে ধরেন কেওয়াছড়া চা বাগানের শ্রমিক গঙ্গা দাশ, হিলুয়াছড়া চা বাগানের শ্রমিক রাধামনি মুণ্ডা ও দলদলী চা বাগানের শ্রমিক রুপামনি দাস। একডোর নির্বাহী পরিচালক লক্ষ্মীকান্ত সিংহের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ্ দিদার আলম চৌধুরী নবেল।

সভায় বক্তারা বলেন, ‘দেশি ও বিদেশি চক্রের মাধ্যমে চাশিল্পকে ধ্বংস করা হচ্ছে। এর খেসারত দিচ্ছেন চা শ্রমিকরা। আমাদের দেশের চা পাতা কারখানায় অবিক্রীত থেকে যায়। কিন্তু বিদেশ থেকে চা আমদানি করা হয়। চা শিল্পকে ধ্বংস করতে একটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এসব করছে। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে ও চা শিল্পের পলিসি বদলাতে সরকারের নীতিনির্ধারকদের এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে শোষণ আর বঞ্চিত হওয়ার বেড়াজাল থেকে চা শ্রমিকরা বের হয়ে আসতে পারবেন না। ২০২৫ সালে এসে যদি চা শ্রমিকদের ওপর আমরা ২০০ বছর আগের মতো শোষণ দেখতে হয়, তাহলে এটা আমাদের জন্য লজ্জার।’

চা শ্রমিকরা বলেন, ‘আমাদের মজুরি থেকে চিকিৎসা খরচও কাটা হয়। কিন্তু আমাদের ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় না। ১৭৮ টাকা মজুরি, সেটাও নিয়মিত দেওয়া হয় না। আমরা আমাদের সন্তানাদি নিয়ে কীভাবে জীবনধারণ করছি, সেটা শুধু আমরাই জানি। আমরা পাতা তোলা ছাড়া অন্য কাজ করতে পারি না। তাই অন্য পেশায়ও যেতে পারি না। এত বছর ধরে আমাদের পূর্বসূরিরা এই চা বাগানে শ্রম-ঘাম দিয়েছেন। আমরাও তাদের পথ অনুসরণ করেছি। কিন্তু এখনো আমাদের ভূমির অধিকার দেওয়া হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category