দিনাজপরের ফুলবাড়ী উপজেলায় আগাম জাতের আলু তোলা শুরু হয়েছে। মাঠে মাঠে এখন আলু তোলার ধুম চলছে। বাজারে নতুন আলুর চাহিদা ও দাম বেশি হওয়ায় আলু চাষিদের মুখে ফুটেছে হাসি। ক্ষেত থেকেই পাইকাররা প্রতি কেজি জাত ভেদে ৯০ থেকে ৮০ টাকায় আলু কিনে নিচ্ছেন। তবে বাজারে নতুন আলু উঠলেও তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি বাজারে। বাজারে এখনও পুরাতন আলু ৭০/৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে একই সাথে নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ৯০/১০০ টাকা কেজি দরে। উপজেলার আগাম আলু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে বলে কৃষক ও পাইকারদের সূত্রে জানা গেছে।
ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষির ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। দীর্ঘদিন থেকে উপজেলার কৃষকরা আগাম জাতের আলু চাষ করছেন। বিশেষত, আগাম আলু চাষের মাধ্যমে কৃষকরা দ্রুত নগদ অর্থ উপার্জনের সুযোগ পান বলেই আগাম আলু চাষ করেন। উপজেলার চাষিরা আগাম জাতের আমন ধান কাটার পরপরই জমি প্রস্তুত করে আগাম আলুর আবাদ শুরু করেন। মাত্র ৫৫-৬০ দিনের মধ্যেই আলু উত্তোলন করে বাজারজাত করা সম্ভব হয়। তারপর ওই জমিতে ভুট্টা চাষ করেন কৃষকরা।
রাজারাপুর গ্রামের কৃষক নুরুজ্জামান চৌধুরী জানান, তিনি চলতি মৌসুমে প্রায় সোয়া দুই বিঘা জমিতে আগাম জাতের আলু চাষ করেছেন। আশিন মাসের ২৫ তারিখে এই আলু রোপণ করেন। ওই সময় প্রতি কেজি বীজ আলু ৬৭ টাকা কেজি দরে কিনে রোপণ করেন। তার এই জমিতে রোপণ পরিচর্যাসহ মোট ব্যয় হয়েছে দেড় লাখ টাকা। ২/৩ দিন থেকে আলু তোলা শুরু করেছেন। তিনি ক্যারেজ জাতের আলু চাষ করেছেন। মাঠ থেকে তার আলু পাইকাররা কিনছে ৮৩ টাকা কেজি হিসেবে। তিনি আশা করছেন তার এই জমি থেকে ২০০শ’ মণ আলু পাবেন। বাজার দর এমন থাকলে ভালই দাম পাবেন।
এদিকে ফুলবাড়ী পৌরবাজার ঘুরে দেখা যায়, পুরাতন আলু বিক্রি হচ্ছে ৭০/৭৫ টাকা কেজি হিসেবে। আর নতুন আলু ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা কেজি হিসেবে। কয়েকজন ক্রেতা বলেন, বাজারে নতুন আলু উঠলেও দামে কোনো প্রভাব পড়েনি। আগে যেমন ছিল তেমনি আছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার বলেন, এ বছর ফুলবাড়ী উপজেলায় ১,৮২০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আলু চাষের সময় এখনও শেষ হয়ে যায়নি। গত সপ্তাহ পর্যন্ত উপজেলায় ১৩৫০ হেক্টর জমিতে আলু রোপণ শেষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার উপজেলার আগাম আলু চাষিরা আলু চাষ করেছেন এবং আলু তোলতেও শুরু করেছেন। বাজার দাম হিসেবে আগাম আলু চাষ করে কৃষক ভাল দাম পাচ্ছেন এবং লাভবান হচ্ছেন।