• মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৩ অপরাহ্ন

কিডনি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া সেই দম্পতি পেলেন অটোরিকশা

ডেস্ক রিপোর্ট / ৯৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫

সম্প্রতি ঋণগ্রস্ত হয়ে নিজেদের কিডনি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া নবীউল্লাহ ও জাহানারা দম্পতিকে অটোরিকশা কিনে দিয়েছেন পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবেত আলী।

বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসক সাবেত আলী তার কার্যালয়ে ওই দম্পতির হাতে অটোরিকশার চাবি তুলে দেন।

এ মসয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল কাদের, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন ও কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোফায়েল প্রধান উপস্থিত ছিলেন।

নবীউল্লাহ ও জাহানারা দম্পতির বাড়ি জেলার সদর উপজেলার কামাতকাজলদিঘী ইউনিয়নের তালমা এলাকায়৷

জানা গেছে, নবীউল্লাহ ও জাহানারা দম্পতির মেয়ে নিতু আক্তার থ্যালাসেমিয়া এবং ছেলে জিহাদ অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত। দুই ছেলে-মেয়ের চিকিৎসা করাতে তারা ইতোমধ্যে সব শেষ করেছেন। সর্বশেষে সন্তানদের চিকিৎসা করাতে তারা বিভিন্ন এনজিও থেকে বড় অঙ্কের টাকা তুলে ঋণে পড়েন। পাশাপাশি খেয়ে না খেয়ে অভাবে দিনরাত পার করছিলেন। পরে তারা কোনো উপায় না পেয়ে বিভিন্ন দেয়ালে কিডনি বিক্রির বিজ্ঞাপন সাঁটান। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে দৃষ্টিগোচর হয় জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক সাবেত আলীর। পরে তিনি এই পরিাবারটির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন।

এদিকে নতুন অটোরিকশা পেয়ে খুশি নবীউল্লাহ ও জাহানারা দম্পতি। এ বিষয়ে নবীউল্লাহ বলেন, ছেলে-মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে আমার যা ছিল সব খরচ করেছি। এখন রিক্সা চালিয়ে অন্তত দুইবেলা খাবার যোগানো যাবে। জেলা প্রশাসকসহ যারা আমাকে এভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। সবাই আমারা দুজনকে দোয়া করবেন। আমি যেন এই রিকশা চালিয়ে নিজে চলতে পারি এবং ছেলে-মেয়ের চিকিৎসা খরচ ও ঋণ পরিশোধ করতে পারি৷

কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোফায়েল প্রধান বলেন, পরিবারটি বিভিন্ন কারণে একেবারেই অসহায় হয়ে পড়েছে। তার ওপর ঋণের চাপ। উপায়ন্ত না পেয়ে কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। বিষয়টি নজরে আসলে আমি খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারি আসলেই তাদের করুন অবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীনও ছিলো নবীউল্লাহ৷ তাকে যে রিকশা দেওয়া হলো আশাকরি তিনি এটা চালিয়ে ভালভাবে চলতে পারবেন।

জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক সাবেত আলী বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে আমরা জানতে এই অসহায় দম্পতি ঋণে পরে তাদের কিডনি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। তখন পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেই। আমরা জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বুধবার বিকেলে ওই পরিবারটিকে একটি নতুন অটোরিকশা কিনে দিয়েছি। এই অটোরিকশা তিনি সংসার চালাতে পারেন এবং ধীরে ধীরে ধীরে ঋণ পরিশোধ করতে পারেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category