পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করছেন বিয়ানীবাজার উপজেলার ১৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৮ শতাধিক শিক্ষক। ৩ দফা দাবীতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবার অর্ধদিবস কর্মসূচি পালন করছেন বিয়ানীবাজার উপজেলার সহকারী শিক্ষকরা। আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষকরা। এর আগে এক ঘন্টা এবং পরবর্তীতে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত একটানা ২ ঘন্টা কর্মবিরতি পালন করেছেন শিক্ষকরা। দাবী আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির নেতারা।
এদিকে, সহকারী শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আহবান করেছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সারাদেশের শিক্ষকরা আশাবাদী ছিলেন সরকারের নীতি নির্ধারনী পর্যায়ের কাঙ্খিত এ বৈঠক থেকে সমাধান আসতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক ঘন্টার এই বৈঠক থেকে আশানুরূপ কোন সিদ্ধান্ত না আসায় কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন কেন্দ্রীয় সহকারী শিক্ষক সমিতির নেতা শাহীন আকতার, শামছুদ্দীন মাসুদ ও খায়রুন নাহার লিপি।
বৈঠক থেকে বের হয়ে শিক্ষক নেতারা জানান, আমরা সরকারের কাছে ন্যায্য এবং যৌথিক দাবিগুলো তুলে ধরেছি। আমরা চাই না কঠোর কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীদের ক্ষতির মুখে ঠেলে দিতে। কিন্তু সরকারের নীতি নির্ধারনী পর্যায়ে যারা আছেন তারা আমাদের সমস্যাগুলো বুঝতে পারছেন না। আমাদের সম্মানের কথা চিন্তা করছেন না। সেজন্য বাধ্য হয়ে আমাদেরকে কর্মবিরতি পালন করতে হচ্ছে।
জানা গেছে, ১১তম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে সারা দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা টানা কর্মবিরতি পালন করার ঘোষণা দেন। তাদের ঘোষিত কর্মসূচি পালন করেছেন মাঠ পর্যায়ের দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষকরা।
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের ব্যানার এ কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে।
বিয়ানীবাজার উপজেলার বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষকরা নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে আসলেও শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান থেকে বিরত থাকেন। তাদের ঘোষিত কর্মসূচির অর্ধদিবস পালন করায় শিক্ষার্থীরা পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে বেশিরভাগ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে গিয়ে রুটিন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের পড়া বুঝিয়ে দিয়ে এসে তাদের কর্মসূচি পালন করছেন।
প্রাপ্ত সূত্রে জানা যায়, শিক্ষকদের চলমান এ কর্মসূচি আগামী ২৫শে মে পর্যন্ত অর্ধদিবস চলবে। এরমধ্যে তাদের দাবি মেনে না নেওয়া না হলে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করবেন সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা।
এ বিষয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমীন বলেন, ‘ আমরা চাই না কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হোক। কিন্তু সরকার আমাদের প্রতি আন্তরিক নয়। আমরা আশা করেছিলাম গতকালের ডিজি মহুদোয়ের সাথে বৈঠক থেকে আশানুরূপ কোন সিদ্ধান্ত আসবে। আমরা আমাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে আবারও শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে মনোযোগী হবো। কিন্তু বৈঠক থেকে আশানুরুপ কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। সেজন্য আমরা বাধ্য হয়ে কর্মসূচি পালন করছি।
বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু তালুকদার বলেন, একটা জাতিকে সুশিক্ষার প্রাথমিক ভিত্তি স্থাপন করার পেছনে যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর ঘাম জড়িয়ে আছে তাদেরকে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর মূল্যায়ন দেওয়া হয়েছে এর থেকে বড় বৈষম্য আর কি হতে পারে।
উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলী হোসেন মুন্না বলেন, আমরা প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাই, মাতার ঘাম ঝরাই। কিন্ত সরকার আমাদের ন্যায্য দাবী মেনে নিতে চাচ্ছে না সেজন্য আমরা এই কর্মসূচি চালিয়ে যাবো। তাছাড়া আমাদের প্রাপ্ত সম্মানের সাথে সম্মানিটাও যেন সম্মানজনক হয় সেই দাবি আদায়ের কর্মসূচি পালন করছি। আমাদেরকে যে বেতন দেওয়া হয় সেটা দিয়ে ভালো মতো বাচার কোন উপায় নেই। সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি যাতে না হয় সেজন্য অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের দাবি মেনে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
শিক্ষকদের দাবিগুলো
তিন দফা দাবি
১. সরকারের গঠিত কনসালটেশন কমিটির সুপারিশের যৌক্তিক সংস্কার করে সহকারী শিক্ষক পদকে এন্ট্রি পদ ধরে ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ।
২. ১০ বছর ও ১৬ বছরপূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন।
৩. প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতিসহ দ্রুত পদোন্নতি প্রদান।
সহমত পোষন করছি