১৬ মাস আগের কথা। বিয়ের ১০ বছর পর ময়না বেগমের কোল আলো করে এসেছিল আমান উদ্দিন। তাকে নিয়ে ভালোই চলছিল ময়না আর আমিন ইসলামের সংসার। সম্প্রতি আমান ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। তার সুচিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
কিন্তু দুদিন চিকিৎসার পর আমান মারা যায়। অভিযোগ উঠেছে, নার্সদের অবহেলার কারণে ১৬ মাস বয়সী আমান মারা গেছে। এ ঘটনায় তিন নার্সকে দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। নিহত আমান চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের মুক্তাশা হলপাড়ার আমিন ইসলামের ছেলে।
আমানের বাবা আমিন ইসলাম বলেন, ‘গত ৮ জানুয়ারি অসুস্থ অবস্থায় ছেলেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছিলাম। গত ১০ জানুয়ারি রাতে তার স্যালাইন শেষ হয়ে যায়। রাতেই আমি দৌড়ে নার্সদের কাছে গিয়ে স্যালাইন দিতে বলি। এ ছাড়া চিকিৎসার পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাই। কিন্তু আমার সন্তানের বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে তারা মুঠোফোন ব্যবহারে ব্যস্ত থাকেন। আমার সঙ্গে কথাও বলেননি। এমনকি এ সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো চিকিৎসকও ছিলেন না। পরে ১১ জানুয়ারি সকালে আমার ছেলে মারা যায়।’
এদিকে শিশু মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উত্তেজনা দেখা দেয়। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হাসপাতালে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিন নার্সকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। পরে তিনজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। অব্যাহতি পাওয়া তিন নার্স হলেন, সিনিয়র স্টাফ নার্স আম্বিয়া খাতুন, মজিদা খাতুন ও আমেনা খাতুন। যদিও অভিযোগ ওঠা তিন নার্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাই তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।
গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল হামিদ বলেন, ‘যারা (নার্স) দায়িত্বে ছিলেন তাদেরকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে সেদিকে নজর রাখা হবে।’
গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল বাসার জানান, শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।