• সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:০০ পূর্বাহ্ন

রাজশাহী সিটি করপোরেশনে হঠাৎ দুদকের অভিযান, আতংকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

ডেস্ক রিপোর্ট / ১৪৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৫

দরপত্র ছাড়াই সংস্কারকাজ করার অভিযোগে রাজশাহী সিটি করপোরেশনে (রাসিক) অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে দুদকের সমন্বিত রাজশাহী কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইনের নেতৃত্বে একটি দল এ অভিযান চালায়। অভিযানে তিনটি ফাইল জব্দ করা হয়েছে।

এ সময় দুদক সমন্বিত রাজশাহী কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তানভীর আহমেদ সিদ্দীক, উপ-সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে আমির হোসাইন বলেন, ‘দরপত্র ও কোটেশন ছাড়াই সংস্কারকাজ হওয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে তিনটি ফাইল জব্দ করা হয়েছে। এর বাইরেও আমরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি, যেখানে ঠিকাদার ছাড়াই কাজ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বেশকিছু অনিয়মের তথ্যও পেয়েছি। আমরা যে ফাইলগুলো পেয়েছি, সেগুলোর তথ্য যাচাই-বাছাই করে এর ফাইন্ডিংস প্রতিবেদন আকারে দুদকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠাব। প্রতিবেদন অনুযায়ী দুদক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।’

সূত্রে জানা গেছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিজয়োল্লাসের নামে দেশজুড়ে চলা হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ থেকে রেহায় পায়নি রাজশাহী সিটি করপোরেশনও (রাসিক)। অগ্নিকাণ্ড ও ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত রাসিকের সংস্কারকাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। মানা হয়নি সঠিক প্রক্রিয়াও। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে দিয়ে সংস্কারকাজ করাচ্ছে বলে শোনা গেছে। তবে ওই ঠিকাদারের নাম ও পরিচয় নিশ্চিত করেনি কোনো পক্ষই। কিন্তু প্রায় ২২ কোটি টাকার সংস্কারকাজের লক্ষ্য নিয়ে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে ২০ লাখ টাকার বিল পরিশোধও করা হয়েছে।

রাসিক সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয়ে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে নগর ভবন ও এর বাইরের সিটি করপোরেশনের স্থাপনাগুলোতে ২১ কোটি ১১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। ‘রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক সিটি করপোরেশনের প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প চলমান। ওই প্রকল্পের ভেতর উপপ্রকল্প করে নগর ভবন সংস্কারকাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে মন্ত্রণালয় তা নাকচ করে জানিয়ে দিয়েছে, সংস্কার করতে হবে নিজস্ব অর্থেই। মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাওয়ার পর সম্প্রতি নগর ভবনের সংস্কারকাজ শুরু করা হয়েছে। তবে এ কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়নি।

কিন্তু সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘রিকুয়েস্ট ফর কোটেশন মেথডে’ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত কাজ বিনা টেন্ডারে করা যায়। এ ছাড়া দরপত্র ছাড়া কাজ করার আরও অনেক পদ্ধতি আছে।

জানতে চাইলে সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আহমদ আল মঈন বলেন, ‘অফিসপ্রধান একটা অনুমোদন দিয়েছেন। এর ভিত্তিতেই ক্রয় নীতিমালা মেনে কাজ করা হচ্ছে। তবে একসঙ্গে নিজস্ব অর্থে এত কাজ করা সম্ভব না বলে কোটেশন আকারেই ছোট ছোট কাজ দেখাতে হবে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে কোটেশনের কাগজপত্র রেডি হয়ে যাবে। তখন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, কে কাজটা করল তা বলা যাবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে হাতের কাছে যাকে পেয়েছি, তাকে দিয়েই কাজ করাচ্ছি।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category