• সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন

শামুক কুড়িয়ে সংসার চলে তাদের

ডেস্ক রিপোর্ট / ১৫৩ Time View
Update : রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪

নড়াইল জেলার বিল অঞ্চলের শামুক কুড়িয়ে বছরে আয় করছেন প্রায় ১৫ কোটি টাকা। মৌসুমি এ কাজে সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে দুই হাজারেরও বেশি মানুষের। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার শামুক সরবরাহ করা হচ্ছে যশোর, খুলনা, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলায়। বিল ও মাছের ঘের দিয়ে বেষ্টিত কৃষিপ্রধান নড়াইল জেলা। প্রতিবছরের মতো এবারও বিল থেকে শামুক কুড়িয়ে মৌসুমি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে কয়েক হাজার নারী-পুরুষের। নারী-পুরুষ মিলে প্রতিদিন ৫শ থেকে ৬শ টাকা আয় করে সংসারে এনেছেন সচ্ছলতা। শামুকের ভেতরের অংশের পাশাপাশি খোলারও বাড়ছে ব্যাপক চাহিদা। শামুকের খোলা দিয়ে তৈরি হয় চুন, যা এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে এনেছে নতুন গতি।

নড়াইল জেলার লোহাগড়া, কালিয়া এবং সদর উপজেলার শোলপুর বিল, ইছামতি বিল, কলোড়াসহ ১২টি বিলের শামুক কুড়ানো হয়ে থাকে। নড়াইল শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে বিল অঞ্চলের হুগলাডাঙ্গা গ্রামের নারী-পুরুষ প্রতিদিন ভোরবেলা নৌকা বা ডোঙা নিয়ে ছুটে যান শামুক কুড়াতে। প্রতিদিন একেকজন নারী-পুরুষ ২০ থেকে ২৫ কেজি শামুক বিক্রি করে আয় করেন ৫শ থেকে ৬শ টাকা।

সদর উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী জানায়, লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রতিদিন সকালে বিল থেকে শামুক সংগ্রহ করে ২শ থেকে ৩শ টাকা আয় করে থাকে। কালিয়া উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের দিনমজুর শেখ কালু মিয়া জানান, সংসার চালানোর জন্য তিনি বিলখাল থেকে শামুক সংগ্রহ করে মাছচাষিদের কাছে বিক্রি করে থাকেন। এতে তার প্রতিদিন প্রায় ৫শ টাকা আয় হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর নড়াইলের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মালেক মিয়া বলেন, শামুক কুড়িয়ে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন ঠিকই, কিন্তু পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। সকল প্রকার জীব পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অবদান রাখে। কাজেই কোনো একটি জীব যদি বিলুপ্ত হয়ে যায়, তা হলে পরিবেশ ভারসাম্য হারায়। ফলে হুমকির মুখে পড়তে পারে পরিবেশের ভারসাম্য।

নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এইচএম বদরুজ্জামান বলেন, শামুক মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। খাল-বিলে বেশি পরিমাণ শামুকের বিচরণ থাকার কারণে পানি ও মাটির উর্বরতা বাড়ে এবং ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। শামুক বিলুপ্তির কারণে মৎস্য অধিদপ্তরে আওতায় ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় নড়াইলের মৎস্যজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে শামুক সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category