চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) একদল শিক্ষার্থী ২০১৭ সালে গড়ে তুলেছিলেন বঞ্চিত শিশুদের স্কুল ‘প্রদীপ’। করোনা এই স্কুলের যাত্রা সাময়িকভাবে থামিয়ে দিয়েছিল। এখন নতুন করে শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়ানোর কাজ শুরু করেছে।
শুরুতে ছয়টি শিশুকে নিয়ে শুরু হয়েছিল প্রদীপের যাত্রা। এক বছরের মধ্যে সেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৬০ জনে। প্রদীপের কার্যক্রম শুরু হয় মূলত সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা উপকরণ প্রদানের মাধ্যমে। পাশাপাশি চুয়েটের বিভিন্ন ক্যান্টিন ও গেটের সামনের হোটেলগুলোয় কর্মরত শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের উপযোগী করে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয় চুয়েটের নিকটস্থ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয়। তাদের বিনামূল্যে দেওয়া হয় খাতা, কলম, পেনসিল ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী।
সপ্তাহে তিন দিন চুয়েটের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উন্মুক্ত স্থানে বসে আলো ছড়ানোর এই কাজ। চুয়েটের শিক্ষার্থীরা নিজেদের লেখাপড়া নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। এর মাঝে কেউ কেউ সময় বের করে শহরে বা আশপাশে টিউশনি করেন। এর মধ্যে পালা করে শিক্ষার্থীরা সুবিধাবঞ্চিতদের পড়াতে বসে পড়েন। বর্তমানে প্রদীপের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৫ জন। আবার শিক্ষকের সংখ্যাও ৩০ জন। সপ্তাহে তিন দিন এই স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম চলে। প্রথাগত লেখাপড়ার বাইরেও এখানে শেখানো হয় সামাজিক দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও মানবিক বোধ। কবিতা ও গানের ব্যাপারেও দেওয়া হয় ধারণা।
প্রদীপ স্কুলের সভাপতি, চুয়েটের পুর কৌশল বিভাগের ১৯ আবর্তের শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান মহব্বত বলেন, চুয়েটের শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের জন্য কাজ করার পাশাপাশি সমাজের জন্য কী করছি, সেটা নিয়ে ভাবতাম। সেই ভাবনা থেকেই প্রদীপ স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ শুরু করি। সিনিয়র ভাইয়েরাও এগিয়ে আসেন। সুবিধাবঞ্চিত বাচ্চারা নানা বয়সী হওয়ায় তাদের চাহিদাও ভিন্ন ভিন্ন। এখানে সর্বনিম্ন ৬ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছর বয়ষের শিক্ষার্থী আছে। প্রথম শ্রেণি থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। তাদের পড়াশোনার জন্য দরকারি খাতা, কলম, পেনসিলের মতো শিক্ষা সামগ্রির ব্যবস্থা আমরাই করছি। এর বাইরেও পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের নাস্তা, ব্যাগ ও কাপড় এবং পরীক্ষার ফি দেওয়ার চেষ্টা করে থাকি। এ কাজে চুয়েটিয়ান বন্ধু, ছোট ভাই-বোন ও বড় ভাইদের অংশগ্রহণ আমাকে সব সময় অনুপ্রাণিত করে।
পড়ানোর কাজে জড়িত কয়েকজন বলেন, সুবিধাবঞ্চিতদের শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ দেখে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া কেউ কেউ আসছে তাদের সঙ্গে পড়তে। তাদেরও পড়ানো হয়।
মাহফুজুর রহমান মহব্বত বলেন, ভবিষ্যতে চুয়েটের আশপাশের এলাকায় ওয়াটার স্যানিটেশন ও হাইজিন নিয়ে সচেতনতা ছড়ানো, কিছু এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট সমাধান এবং বিভিন্ন স্কুলে মোটিভেশনাল কর্মসূচিতেও তাদের কাজে লাগোনোর পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি।