সিলেটের বিয়ানীবাজারের কুশিয়ারা নদীর আঙ্গারজুর চর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয়ে স্থানীয় একটি চক্র বালু উত্তোলনে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অবৈধ এবং অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকিতে প্রতিবেশী গ্রামসহ স্থানীয় বসতি। এসব বালু ট্রাক্টর দিয়ে পরিবহন করায় নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি ও গ্রামীণ রাস্তা।
বিষয়টি অবগত হয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, কুশিয়ারা নদীর আঙ্গারজুর বালু চর থেকে প্রতিদিন অন্তত ৪০-৫০টি ট্রাক্টর ও নৌকা বোঝাই করে বালু বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আঙ্গারজুরের সাবেক ছাত্রদল নেতা শামীম আহমদ বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি আঙ্গারজুর পূর্ব মহল্লা এলাকার আরব আলীর ছেলে। এছাড়াও বৈরাগীবাজার এলাকার শ্রমিক দল নেতা আলী হাসান ও স্বপন আহমদ অবৈধ বালু উত্তোলনে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে এই তিনজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ জমা হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছরওয়ার হোসেন বলেন, কোন অবৈধ কাজে কেউ জড়িত থাকলে প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে। এখানে বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয় দেয়ার কোন সুযোগ নেই। তাছাড়া শামীম আহমদ বিএনপির কোন পদ-পদবীতে নেই।
বালু পরিবহনকারী এক শ্রমিক জানান, তারা প্রতি নৌকা বালু ২৫০-৩০০ টাকা দরে কিনছেন। এরপর এগুলো তারা বিক্রি করেন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে। প্রত্যেক নৌকা চালক প্রতিদিন ৭-৮ বার বালু নিয়ে যান আঙ্গারজুরের বালু চর থেকে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী শামীম জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পেয়েছি। আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এ বিষয়ে শামীম আহমদ বলেন, আমি রঙের দোকানের ব্যবসায়ী। বালু উত্তোলনের সাথে সম্পৃক্ত নেই।
উল্লেখ্য, বিয়ানীবাজার উপজেলায় দীর্ঘ কয়েক বছর থেকে সিন্ডিকেট করে কুশিয়ারা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন অসাধু ব্যাবসায়ীরা। বিগত দিনে আওয়ামী লীগ দলীয় লোক এই ব্যবসার সাথে জড়িত থাকলেও বর্তমানে বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতারা এই ব্যবসায় নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। দিনের পর দিন প্রকাশ্যে নদী থেকে বালু উত্তোলন করলেও প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।