• রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন

আশ্রয়ণের ঘরে এসি-ফ্রিজ লাগিয়ে বিলাসী জীবন

ডেস্ক রিপোর্ট / ১৭০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৪

ভূমিহীন পরিচয়ে একজন বাগিয়েছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের ছয়টি ঘর। আরেকজন বাগিয়েছেন চারটি। আবার কেউ কেউ ঘর নিলেও থাকেন না সেখানে। এর মধ্যে একজন তো ঘটিয়েছেন অবাক কাণ্ড! নিজ কবজায় রাখা ৬টি ঘরের তিনটিতে লাগিয়েছেন এসি। মেঝেতে করেছেন টাইলস। তাঁর দুই স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে করছেন বিলাসী জীবনযাপন। ভূমিহীনদের ঘর বিতরণে এমন নজিরবিহীন অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে যশোরের মনিরামপুরের একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে। অথচ গ্রামটিতে অনেকেই রয়েছেন গৃহহীন-ভূমিহীন।

জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, বরাদ্দে অনিয়ম হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে, সত্যতা পেলে নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।

মনিরামপুর উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পে ২২টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। সাদা রঙের ঘরগুলোর মধ্যে ব্যতিক্রম উত্তর প্রান্তের ৬টি ঘর। দুই বছর আগে গোলাপি রঙের ঘরগুলোর বারান্দা ঘেরা হয়েছে গ্রিল দিয়ে, মেঝে মোড়ানো হয়েছে টাইলসে, তিনটি ঘরে লাগানো হয়েছে দেড় টনের তিনটি এসি। ঘরে রয়েছে মূল্যবান আসবাবপত্র, টেলিভিশন ও ফ্রিজ। এমনকি উঠানটিও করা হয়েছে পাকা ঢালাই।

দুই স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালিকাসহ ১২ সদস্যে নিয়ে এই ৬ ঘরে বসবাস করছেন আলতাফ হোসেন। অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে এসব ঘর বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। এরপর নিজেদের মতো করে সাজিয়েছেন। কথিত ভূমিহীন এ পরিবারে বিলাসী জীবনযাপন নিয়ে এলাকায় সমালোচনা চলছে।

আলতাফ হোসেন বলেন, ‘যে জমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প করা হয়েছে, সেই জমিতে ২০০৮ সাল থেকে তিনি দুই স্ত্রীসহ ছেলে মেয়ে নিয়ে দুটি বাড়ি বানিয়ে থাকছিলেন। হঠাৎ ২০২১ সালে সরকার যখন উদ্যোগ নিল গৃহহীনদের বাড়ি নির্মাণের। তখন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এই জমিতে এসে বলেন, এই খাস জমিতে আশ্রয়ণের ঘর নির্মাণ করা হবে। আমাকে এই বাড়ি ভাঙার নির্দেশনা দেন। তখন আমাকে ইউএনও স্যার বলেন আপনার যতগুলো পরিবার ততগুলো ঘর দেওয়া হবে। ইউএনও স্যার আমাকে ৬টি ঘরই দিয়েছে। সেখানেই পরিবার নিয়ে থাকছি।’

তার দাবি প্রকৃত ভূমিহীন হিসেবেই তারা ঘর পেয়েছেন; স্বচ্ছতা ফেরায় শখ পূরণ করেছেন মাত্র দাবি করে বলেন, ‘আমরা দুই ছেলে ঢাকাতে চাকরি করেন। তারাই আমার ঘরগুলো সংস্কার করেছে। ঘরে টাইলস, ফ্রিজ, এসি লাগিয়েছে। এটা তো দোষের কিছু না।’

আলতাফের মতো স্থানীয় হরিহর নগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের আত্মীয় এজাজুল হক মধুও বাগিয়েছেন চারটি ঘর। এজাজুল চারটি ঘর নিলেও থাকেন না একটিতে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের আধা কিলোমিটার দূরে তার নিজ বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন তিনি। স্থানীয়রা জানান, চারটি ঘরের মধ্যে একটি ঘরে মাঝে মধ্যে আসেন তিনি। বাকিগুলো তালাবদ্ধ থাকে। জমির দলিল ও বাড়ির কাগজপত্র বুঝিয়ে নিয়ে তাঁরা থাকেন অন্যত্র।

বিষয়টি স্বীকারও করেছেন এজাজুলও। তিনি বলেন, ‘চারটি ঘরের মধ্যে একটিতে মাঝে মধ্যে থাকি। বাকি তিনটির মধ্যে একটি মেয়ে, ভাগনি ও ভাইপোকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁরা কেউ থাকেন না এখানে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়ে প্রভাব খাঁটিয়ে যে যার মতো ঘর বাগিয়ে নিয়েছে। ঘর বরাদ্দের সময় সরকারি কর্মকর্তারা কারও কথা শোনেনি। তাঁরা যথেচ্ছাচার করেছেন।

হরিহরনগর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘পূর্বের চেয়ারম্যান এই ঘর বরাদ্দের সময় সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এই অনিয়ম করেছেন। তাঁরা স্বেচ্ছাচারিতা করেছেন।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘বরাদ্দে অনিয়ম হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে, সত্যতা পেলে নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের তথ্যমতে, ২০২১ সালে বরাদ্দ দেওয়া দুই শতক জমির ওপর নির্মিত আশ্রয়ণের প্রতিটি ঘরে দুটি বেডরুম, একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট ও বারান্দা রয়েছে। একটি ঘর নির্মাণে সরকারের খরচ হয়েছে ২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category