বোরোর পর চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে সুনামগঞ্জে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন কৃষকরা। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৫৬ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে।
লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এক হাজার টন ধান বেশি উৎপাদনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ। যার বাজার মূল্য হাজার কোটি টাকা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রায় চার লাখ কৃষক পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই লাখ কৃষক পরিবার আমন ধান চাষাবাদ করেন। চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৩ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অর্জন হয়েছে প্রায় ৮৩ হাজার ৪৯৫ হেক্টর। তাই এক হাজার টন ধান বেশি উৎপাদিত হবে। এবং মোট উৎপাদিত হবে ৩ লাখ ২১ হাজার টন ধান। যার বাজারমূল্য এক হাজার কোটি টাকারও বেশি।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় চলতি আমন মৌসুমে ২৫ প্রজাতির ধান চাষাবাদ হয়েছে। হাওরপ্রধান এলাকা হলেও সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, শান্তিগঞ্জ, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলায় আমন ধানের বেশি চাষাবাদ হয়েছে। চাষ করা ধানের মধ্যে বিনা ১৭, ব্রি ৪৯, ৯০, ৯৫ ও বিআর-২২, ব্রি ধান-৮৭ বেশি চাষ হয়েছে। এপ্রিল, মে ও জুনে পরপর তিন দফা বন্যার কারণে আমন জমিতে পলি পড়ায় ধানের ভালো ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষক ও কৃষি বিভাগ।
কৃষি বিভাগের দাবি অনুযায়ী, প্রতি বিঘায় (কেদার) জমিতে ১৪-১৮ মণ ধান উৎপাদিত হয়েছে। হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হয়েছে ৪.৫ টন।
ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ এলাকার গোবিন্দনগর গ্রামের স্বাবলম্বী কৃষক অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এ বছর আমন ধানের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। ৮০ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছিলাম, ধান কাটা শেষ পর্যায়ে। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় ও আবহাওয়া ভালো থাকায় প্রতি বিঘায় ১৬-১৮ মণ করে ধান হয়েছে।’
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জগাইরগাঁও গ্রামের কৃষক আবুল বরকত বলেন, ‘অন্য বছর থেকে এবার আমন ধান ভালো হয়েছে। কয়েক দফা বন্যার কারণে পলি পড়ে জমি উর্বর হওয়ায় ও নিয়মিত বৃষ্টির কারণে ধানের ফলন ভালো হয়েছে এবার।’
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, ‘চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন হয়েছে আমন ধানের। গেল বর্ষায় বন্যা ও কয়েকবার পাহাড়ি ঢলের পানির সঙ্গে জমিতে পলি পড়েছিল। তাই আমনের উৎপাদন ভালো হয়ে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এক হাজার টন ধান বেশি উৎপাদন হয়েছে। প্রায় ৫৬ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় কৃষকরা নিরাপদে ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই, শুকানো শেষে গোলায় তুলছেন।’