সংসারের অভাব মিটাতে বিজয়ের মাসে বাঁশের লাঠিতে লাল-সবুজের পতাকা বেঁধে বিয়ানীবাজার পৌর শহরের অলিতে গলিতে বিক্রি করছেন জুয়েল। বিশেষ করে উপজেলার উপজেলা পয়েন্ট, থানার সামনে, কলেজ রোডে, দক্ষিণ বাজার, নয়াগ্রাম রোড, জামান প্লাজা মার্কেট এলাকায় জনসমাগম বেশি থাকায় এই এরিয়াগুলোয় পতাকা বিক্রি করছেন তিনি। বিজয়ের মাসে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো বিয়ানীবাজার উপজেলায় লাল-সবুজের পতাকা শোভা পায় বাড়ির ছাদ, বাস, প্রাইভেট কার, অটোরিকশা, রিকশা, সিএনজি, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জুয়েলের মতো আরো প্রায় ৫ জন ভ্রাম্যমাণ পতাকা বিক্রেতা রয়েছেন। তাদের অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা কেউই এখানকার স্থানীয় নয়। বিভিন্ন জেলা বা এলাকা থেকে এসেছেন তারা। সাইদুল নামে এক ব্যক্তি জানান, এখন আর পতাকা বানাতে দর্জিদের কাছে যেতে হয় না। হাতের নাগালেই পাওয়া যাচ্ছে আমাদের জাতীয় পতাকা। বিশেষ করে ১৬ ডিসেম্বর এলেই পতাকা নিয়ে লম্বা লাঠিতে পতাকা টানিয়ে ঘুরে বেড়ান তারা। আমরাও তাদের কাছ থেকে পতাকা কিনি। শরীয়তপুর থেকে আসা রফিক জানান, অন্যান্য উপজেলার থেকে বিয়ানীবাজারে পতাকা বেশি বিক্রি হয়। মনে হয় এখানকার মানুষ পতাকাকে বেশি ভালোবাসে।
শাহাবাগ থেকে আসা মনজু বলেন, আমি বিভিন্ন সময় এই উপজেলায় পতাকা নিয়ে আসি। বিশ্বকাপ খেলায়ও আমি পতাকা বিক্রি করেছি। আমি বিজয়ের মাস শুরু হওয়ার পর থেকেই এখানে পতাকা বিক্রি করছি। ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত এখানে পতাকা বিক্রি করব।
ভ্রাম্যমাণ পতাকা বিক্রেতাদের সূত্রে জানা যায় এখন আর কাগজের পতাকা তেমন চলে না। তাই কাপড়ের পতাকার চাহিদা বেশি। তাদের কাছে আকার-আকৃতি অনুযায়ী ১০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে পতাকা পাওয়া যায়।