ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে মালামাল বহন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন প্রায় পাঁচ শতাধিক গাড়োয়ান। পদ্মা অধ্যুষিত মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের এই উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের মালামাল আনা-নেওয়ার একামাত্র যানবাহন এই ঘোড়ার গাড়ি। পদ্মা অধ্যুষিত এই উপজেলায় অনবদ্য পদ্মার ভাঙনে সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে যায় উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন আজিমনগর, সুতালড়ী ও লেছড়াগঞ্জ। আশির দশকের শেষের দিকে চর জেগে উঠলে আবার এই তিন ইউনিয়নে জনবসতি গড়ে ওঠে।
বর্তমানে চরাঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করে। তিনটি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি হাটবাজার। রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি বিভিন্ন স্থাপনা। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় দুর্গম চরাঞ্চলে।
শুক্রবার সরেজমিন দেখা যায়, কয়েকটি ঘোড়ার গাড়িতে তোলা হচ্ছে সারের বস্তা। এসব মালামাল তোলার জন্য রয়েছে ঘাটের কুলি। অনেক সময় মালামাল কম হলে গাড়োয়ান নিজেরাই গাড়িতে মালামাল তোলেন। চরাঞ্চলের প্রতিটি এলাকাতেই আগের চেয়ে কিছুটা রাস্তাঘাটের উন্নতি হলেও ইঞ্জিনচালিত কোনো যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় মালামাল পরিবহনে ব্যবহার হচ্ছে দুই চাকাওয়ালা ঘোড়ার গাড়ি। মালামাল ছাড়াও মানুষও যাতায়ত করে থাকে এই ঘোড়ার গাড়িতে। লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের হরিণাঘাট থেকেই চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় মালমাল পৌঁছে দেন গাড়োয়ানরা। উপজেলা সদর থেকে মুদি দোকানের বিভিন্ন মালামাল ট্রলারে করে এনে হরিণাঘাট থেকে বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে দেন তারা।
হরিণাঘাটের গাড়োয়ান নূরুল ইসলাম বলেন, তিনি ১০ বছর ধরে ঘোড়ার গাড়ি চালান। প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় হয়। তবে সব দিন মালামাল হয় না। আমরা মহাজনের মালামাল বহন করি। যখন লাগে তখন আমাগো খবর দেয়। বাকি সময় কামলা দিই। এক কাজ করে তো সংসার চালানো যায় না।
গাড়োয়ানরা জানান, প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। বস্তাপ্রতি ৫০ টাকা করে ভাড়া নেন। দূরত্ব বেশি হলে ভাড়াও বেশি হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে পায়ে চলাচলের জন্য রাস্তাঘাট মেটামোটি ভালো হলেও এখানে তো নদীপথ পাড়ি দিয়ে ইঞ্জিনচালিত ভারি যানবাহন আনা সম্ভবও নয়। আর উপযোগী রাস্তাঘাট হয়নি। তাই মালামাল বহনের জন্য এই ঘোড়ার গাড়ি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের দপ্তর থেকে ঘোড়া পালনে এবং ঘোড়ার কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তাদের জন্য সর্বোপরি সহযোগিতা করা হবে।