• রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন

এক দোকানে ৪০ ধরনের চা বিক্রি করে ভাইরাল মোস্তাফিজুর

ডেস্ক রিপোর্ট / ১৮৭ Time View
Update : সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪

ছোট্ট একটি ঘর। সেখানে সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে শোরগোল। পাশের জ্বলন্ত চুলায় সার্বক্ষণ তৈরি হয় চা। ঘরের ভেতরে বসার জন্য চারটি বেঞ্চ। সামনে টং। হরদম মানুষের আনাগোনা। সামনে গেলেই শোনা যায়, ‘আমাকে এক কাপ দিন, আমাকে এক কাপ দিন।’

সব মিলে একটু দম ফেলার কোনো সুযোগ মেলে না চা বিক্রেতার। ৪০ ধরনের চা বিক্রি করে পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরেছে তার। মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকার চা বিক্রি করেন তিনি। এই দিয়ে মিটে দুই মেয়ে ও ছোট ভাইয়ের লেখাপড়া ও সংসারের প্রয়োজনীয় সব খরচ।

বলছিলাম গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভার ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ঘেঁষে রাব্বীর মোড় এলাকার চায়ের দোকানি মোস্তাফিজুর রহমানের কথা। এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মার্কেটের একটু সামনে মোস্তাফিজুরের চায়ের দোকান।

সেখানে প্রায় ১৫ বছর ধরে চা বিক্রি করে আসছেন তিনি। দোকানের নাম দিয়েছেন ‘মাইশা টি স্টল’। জেলাজুড়ে তার চায়ের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। সকাল-রাত প্রায় সব বয়সের মানুষ চা খেতে আসেন এখানে।

সম্প্রতি মোস্তাফিজুরের চায়ের দোকানে গিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে।

তিনি জানান, বাবার অভাবের সংসারে বেশি লেখাপড়া করতে পারেননি। এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে আর পড়া হয়নি তার।

১৫ বছর আগে ছোট্ট একটি দোকানে শুরু করেন চা বিক্রি। শুরুতে লাল চা ও দুধ চা তৈরি করলেও এখন প্রায় ৪০ ধরনের চা তৈরি করছেন তিনি।

সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত অন্তত পাঁচ হাজার টাকার চা বিক্রি করেন মোস্তাফিজুর। তার দোকানে কাজ করে দুজন কর্মচারী।

তিনি আরও জানান, মা-বাবা, ছোট ভাই, স্ত্রী ও দুই মেয়ে নিয়ে আট সদস্যের পরিবার তার।

মোস্তাফিজুর জানান, বছরের প্রায় সময়ে তার দোকানে ভিড় থাকে। তবে শীতের দিনে ভিড় আরও বেড়ে যায়।

শুধু উপজেলা শহরের লোক নয়, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সকাল-রাত প্রায় সব বয়সের লোকই চা খেতে আসেন।

বর্তমানে তার দোকানে ৪০ ধরনের চা পাওয়া যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় চা হলো খেজুর গুড়ের চা, স্পেশাল কাছু মালাই চা ও রং চা।

তিনি জানান, প্রতিদিন ৪০ লিটার দুধ, ৪ কেজি চিনি, ২ কেজি চা পাতা, ৪ কেজি খেজুর গুড় লাগে।

সব মিলিয়ে দিনে পাঁচ হাজার টাকার চা বিক্রি করছেন তিনি। মোস্তাফিজুরের বাড়ি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার নুরপুর গ্রামে। বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনিও দোকানে সময় দেন ছেলেকে।

মাসুদ মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, দিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার চা খেতে আসেন মোস্তাফিজুরের দোকানে। সেখানকার রং চা ভালো লাগে।

চা খেতে আসা রানা মিয়া (৩৫) বলেন, ‘কোনো ব্যবসাই ছোট না, মন দিয়ে করতে পারলে অবশ্যই সফল হবে। মোস্তাফিজুরের ৪০ ধরনের চায়ের মধ্যে ২০টির স্বাদ নিয়েছি। অসাধারণ চা। দোকানের চারপাশে লোকজনের ভিড় লেগেই থাকে। বসার জায়গা না পেয়ে অনেকেই দাঁড়িয়ে চা খান।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category