রাঙামাটিতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। এতে রাঙামাটি শহর, সাজেক ও কাপ্তাই এই তিন পর্যটন কেন্দ্রে ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা বেড়েছে। আবাসিক হোটেল ও রিসোর্টে আগাম বুকিং ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে গেছে। সাপ্তাহিক ছুটি ও বন্ধের দিনগুলোতে পর্যটকদের আগমন ব্যবসায়ীদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে। খাত-সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব এলাকায় দৈনিক প্রায় ১৫০ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়ে থাকে।
রাঙামাটি সারা বছরই পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। বছরে কয়েক লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটক এখানে ভ্রমণে আসেন। জেলার তিনটি পর্যটন কেন্দ্র-রাঙামাটি শহর, সাজেক ও কাপ্তাই এখন পর্যটকদের আনাগোনায় মুখরিত। এসব কেন্দ্রে আবাসিক হোটেল ও রিসোর্টে ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ বুকিং হয়ে গেছে। এটি পর্যটন খাতকে চাঙা করেছে।
সাধারণত ছুটির দিনগুলোতে গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার পর্যটক রাঙামাটির তিন পর্যটন কেন্দ্রে আসেন। তবে বিশেষ দিনগুলোতে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০ থেকে ৭০ হাজারে। আবাসিক হোটেল-রিসোর্ট, খাবারের দোকান, পাহাড়িদের তৈরি টেক্সটাইল কাপড়, সড়ক ও নৌযান এবং দর্শনীয় স্থান ঘিরে রাঙামাটির পর্যটন বাণিজ্যের পাঁচটি খাত গড়ে প্রতি দিন দেড় কোটি টাকার ব্যবসা করছে।
রাঙামাটি শহরে পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্থানগুলোর মধ্যে ঝুলন্ত সেতু, পুলিশের পলওয়েল পার্ক, সেনাবাহিনীর আরণ্যক, চাকমা রাজবাড়ি, সুবলং ঝর্ণা, কাপ্তাই লেক, আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়ক, কাপ্তাই নেভি ক্যাম্প, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, কাপ্তাই রিসোর্ট কটেজ ও সাজেকের পর্যটন স্পট উল্লেখযোগ্য। এসব জায়গায় প্রকৃতিপ্রেমীদের পদচারণে থাকে সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পর্যটকদের সংখ্যা বেড়েছে। গত শুক্রবার ও শনিবার ঝুলন্ত সেতুর কাছে পর্যটকদের ভিড় দেখা গেছে।
ঢাকা থেকে ভ্রমণে আসা হাফসা বলেন, ‘এটা আমার প্রথম রাঙামাটি ভ্রমণ। কাপ্তাই লেক, পাহাড় ও পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। সবাইকে রাঙামাটি আসার পরামর্শ দেব, এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে হবে।’ চট্টগ্রাম থেকে পরিবার নিয়ে আসা সাবিহা ইয়াসমিন বলেন, ‘অনেক জায়গা ঘুরে দেখেছি, কিন্তু রাঙামাটি আগে দেখা হয়নি। এখানকার ঝুলন্ত ব্রিজ দেখা হয়নি, তাই পরিবারকে নিয়ে এখানে এসেছি।’ অন্যদিকে আব্দুর রহমান নামে একজন জানান, ‘রাঙামাটি অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে অসাধারণ। কাপ্তাই লেক, ঝুলন্ত সেতু, পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়ক, সাজেক ভ্যালি- সব এক কথায় অতুলনীয়।
সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুবর্ণ দেব বর্মন জানান, সাজেক ভ্যালিতে বর্তমানে ১১৬টি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি রেস্তোরাঁ রয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার এই ভ্যালিতে পর্যটকদের ভিড় ছিল। প্রায় ৫ হাজার পর্যটক এখানে ভ্রমণে এসেছেন।
রাঙামাটি আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা কামাল উদ্দিন জানান, গেল কয়েক দিনে আশানুরূপ পর্যটক এসেছেন। বিশেষ করে ছেলে-মেয়েদের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের চাপ বেড়েছে। বর্তমানে পর্যটনের ভরা মৌসুম চলছে। তাদের হোটেলগুলোতে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত আগাম বুকিং হয়েছে।
রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, তাদের হোটেলের ৮০ শতাংশ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। গত শুক্র ও গতকাল শনিবার অনেক পর্যটক এসেছেন। তিনি আশা করছেন, এই শীতে ভালো ব্যবসা হবে।