‘আমাদের নিজস্ব ক্যাম্পাস নেই। রয়েছে শিক্ষকের সংকট। আবাসিক হোস্টেল নেই তাই অস্থায়ীভাবে হাসপাতালের চিকিৎসক কোয়ার্টারে থাকতে হচ্ছে, তাও সবার জন্য সিট বরাদ্দ নেই। এসব সংকট খুব দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।’ অনেকটা হতাশার সুরেই নিজেদের সমস্যার কথাগুলো বলছিলেন চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অন্দ্রিলা দে পূজা।
অন্দ্রিলা দের অভিযোগের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে চতুর্থ বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের হোস্টেল নেই। তাই ক্যাম্পাসের বাইরে মেসে থাকতে হচ্ছে। এতে যাতায়াতে সমস্যা হয়। আমাদের শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক ও লাইব্রেরির সংকট রয়েছে। এতে আমাদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।’
চাঁদপুরসহ আশপাশের জেলার বাসিন্দাদের চিকিৎসার অন্যতম ভরসার স্থল ২৫০ শয্যার চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালকে ২০১৮ সালে মেডিকেল কলেজে রূপান্তর করা হয়। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে হাসপাতালের চতুর্থ তলায় কয়েকটি কক্ষ নিয়ে মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। তবে পাঁচ বছরেও চাঁদপুর মেডিকেল কলেজকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা হয়নি। রয়েছে অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকট। বলা যেতে পারে, বহু সমস্যায় জর্জরিত চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য চাঁদপুর শহরতলির ইসলামপুর গাছতলা মৌজার ডাকাতিয়া নদী-তীরবর্তী এলাকায় ৩০ দশমিক ১২ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে ১ হাজার ৩৭০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে।
চাঁদপুর মেডিকেল কলেজে বর্তমানে ৩২৫ জন পড়াশোনা করছেন। প্রথম পাঁচটি শিক্ষাবর্ষে ৫০ জন করে ভর্তি করানো হলেও এবং সর্বশেষ শিক্ষাবর্ষে ৭৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। ইতোমধ্যে প্রথম শিক্ষাবর্ষের ৩৮ শিক্ষার্থী তাদের পড়াশোনা শেষ করেছেন।
গত ২৮ জুলাই চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল অবকাঠামো বাস্তবায়নের জন্য সরকার একজন পরিচালক ও একজন সহকারী পরিচালক নিয়োগ দেয়। স্থায়ী ক্যাম্পাস ও অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়ে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও সহকারী প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘নানা সমস্যা কাটিয়ে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বৈঠকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ১ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করে। এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দ প্রায় ১৫০ কোটি টাকা এবং বাকি টাকায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নার্সিং কলেজ, ছাত্র-ছাত্রী হল, ইন্টার্নি চিকিৎসক হল, ডক্টরস কোয়ার্টার, ডক্টরস ডরমেটরি, স্টাফ কোয়ার্টার, নার্সিং হোস্টেলসহ এই সম্পর্কিত ২৭ ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন বাস্তবায়ন হবে।’
চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের বর্তমান সংকট নিয়ে ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমাদের কলেজে প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। এখনো ২৩ জন বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ জন্য নিজস্ব বিষয় ছাড়াও শিক্ষকদের অন্য বিষয়ে অতিরিক্ত পাঠদান করাতে হচ্ছে।’
চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাহেলা নাজনীন বলেন, ‘নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। এসব মেনেই আমাদের বর্তমান সামর্থ্য দিয়ে কলেজের কার্যক্রম পরিচালনা করছি। অবকাঠামোগত ও শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অনেক সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে- এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে ধীরে ধীরে এসব সমস্যার সমাধান হবে। আমাদের মেডিকেল কলেজের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা চিকিৎসক হয়ে এই হাসপাতালেই ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন। যে কারণে হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক থাকছেন। সব সংকট কাটিয়ে শিগগিরই আমাদের কলেজ একটি পরিপূর্ণ মেডিকেল কলেজে রূপান্তরিত হবে।’