• রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ন

বিয়ানীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ৭টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী

সামিয়ান হাসান / ৫১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৩ জুন, ২০২৫

 

গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি এবং ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে বন্যা প্লাবিত হচ্ছে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার নিম্নাঞ্চল। এ উপজেলার অন্তত ৭টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখন পানির নিচে। বন্যায় প্লাবিত হয়েছে রাস্তাঘাট। এছাড়া টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় পাঁচ শতাধিক কাঁচা ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঢলের পানিতে ভেসে গেছে খামারিদের মাছ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসলি জমি।

আবার উজানে ভারতের আসাম এবং মেঘালয়েও হচ্ছে ভারী বৃষ্টিপাত। এর পানিও নেমে আসছে এ উপজেলায়। এখন পর্যন্ত বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের নিজ বাহাদুরপুর, গজারাই, মোল্লাপুর ইউনিয়নের আলীনগর, লামা নিদনপুর, কটুখালিপার, লাসাইতলা, দুবাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ দুবাগ, চরিয়া, শেওলা ইউনিয়নের বালিঙ্গা, কাকরদিয়া শেওলা, মুড়িয়া ইউনিয়নের সারপার, তাজপুর, নয়াগ্রাম, কোনাগ্রাম, তিলপারা ইউনিয়নের মাটিজুরা, দাসউরা, তিলপারা, কুড়ারবাজার ইউনিয়নের গোবিন্দশ্রী, মোহাম্মদপুর, আখাজনা, বৈরাগীবাজার, এবং আলীনগর ও চারখাই ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। তাছাড়া মোহাম্মদপুর মাদ্রাসা এবং বিয়ানীবাজার উপজেলার প্রায় ৩০টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ইতিমধ্যে বৈরাগীবাজার ও দুবাগবাজার বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষ বাজার-সদাই করতে সমস্যার মধ্যে পড়ছেন। এছাড়া রাস্তাঘাটে পানি উঠে যাওয়ার কারণে বেশ কয়েকটি সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সুরমা, কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

লাসাইতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে আলতাফ হোসেন। তিনি বলেন, আময়াদের বাড়িতে পানি উঠে গেছে সেজন্য পরিবার নিয়ে গত পরসু থেকে এখানে আশ্রয় নিয়েছি। এখানে ৫ টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বৈরাগীবাজার মাদ্রাসায় আশ্রয় নেওয়া হুছনা বেগম বলেন, ঘরের ভেতর পানি ঢুকি গেছে। বাড়ি তাকি খুব কষ্ট করি বারইয়া আছি, রাস্তার মধ্যে পানি। এভাবে কতো দিন থাকা লাগবে আল্লাহ তায়ালায় জানইন।
কাকরদিয়া গ্রামের হোসেন আহমদ বলেন, কুশিয়ারা নদীর ডাইক ভেঙ্গে বাড়িতে পানি উঠে গেছে তাছাড়া রাস্তার মধ্যে পানি। বের হওয়ার কোন সুযোগ নেই।
আঙ্গুরা মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা ইমরান আহমদ বলেন, আমাদের পুরনো মসজিদ এবং মাদ্রাসায় পানি উঠে গেছে। মানুষ খুব করছে। এভাবে যদি পানি বাড়তে থাকে তাহলে আমরা মারাত্মক সমস্যার মধ্যে পড়ে যাবো।

গত কয়েকদিন ধরেই এ অঞ্চলে বন্যার পূর্বাভাস দিয়ে যাচ্ছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। বন্যার আশঙ্কায় বিয়ানীবাজারে ৬৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিরণ মাহমুদকে প্রধান করে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
এদিকে আবার ক্ষনে ক্ষনে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সুরমা-কুশিয়ারার পানি। বিয়ানীবাজারের শেওলা পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৮ সে.মি উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেট-বিয়ানীবাজার সড়কের একাধিক স্থানে পানি ওঠেছে। কুশিয়ারা ও সুরমা তীরবর্তী বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্টান পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যা পরিস্থিতির আরোও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বন্যার্তদের মাঝে বিতরণের জন্য ৪৪মেট্রিকটন চাল, নগদ ৫০ হাজার টাকা ও ১৪৫ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম মুস্তাফা মুন্না জানান, পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্দ আছে। আমরা প্রকৃত বন্যার্ত পরিবারে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করবো। ইতিমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রে কবলিত এলাকার বাসিন্দারা আশ্রয় নিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category