• বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:২১ অপরাহ্ন

সিলেটে প্রকাশ্যে দা উঁচিয়ে চাঁদাবাজি, কে সেই যুবক

স্টাফ রিপোর্টার / ৪০ Time View
Update : বুধবার, ১৮ জুন, ২০২৫

 

নদীতে বালুবাহী বারকি নৌকাসহ বিভিন্ন নৌযান আটকা। এক হাতে দা উঁচিয়ে বুক সমান পানি ঠেলে চাঁদাবাজি করছিলেন একজন। তাকে বাধা দেওয়ায় একজন বারকি শ্রমিককে দা দিয়ে আঘাত করে পালান চাঁদাবাজ। দা উঁচিয়ে চাঁদাবাজ পালানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ইজারাকৃত বড়গাং নদীর বালুমহালের। দা হাতে নিয়ে চাঁদাবাজি করা লোকটি হচ্ছেন জৈন্তাপুরের মাঝের বিল গ্রামের মো. খোকন মিয়া (২৮)। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় খোকন দা দিয়ে সন্তোষ কুমার (৩৫) নামে এক বারকি শ্রমিককে আহত করেছেন। স্থানীয় লোকজন আহত শ্রমিককে বালুমহাল থেকে উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিয়েছেন।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার দিনভর বালুমহালে উত্তেজনা ছিল। খবর পেয়ে জৈন্তাপুরের উপজেলা সহকারী কমিশনার (এসিল্যাণ্ড) ফারজানা আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এসিল্যাণ্ড বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়। ঘটনাটি উর্ধবতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

বালুমহাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১ বৈশাখ থেকে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বড়গাং নদীর ইজারা নেন সনি সোহা এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার চন্দন তালুকদার। বালুমহাল নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি বারকি শ্রমিকদের মাধ্যমে বালু আহরণ করে আসছিল। সম্প্রতি একটি চক্র ইজারাদারের বালু আহরণ কালে রূপচেং মাঝের বিল এলাকার জাটকা জামাল, মজিদ, নিজপাট ইউপির সাবেক মেম্বার আবদুন নূর, আলাই মিয়া, জমির উদ্দিন ওরফে কলা জমির, আবুল, আব্দুল জলিল, বাবুল মিয়া, ইসলাম মিয়ার নেতৃত্বে রূপচেং মাঝেল বিল এলাকায় বারকি শ্রমিকদের বালু উত্তোলনে বাধা দেয়। একপর্যায়ে নৌকা প্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করে। এতে করে বারকি নৌকা দিয়ে বালু আহরণ বন্ধ হয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার সকালে বারকি দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু হলে চাঁদা আদায়কারীদের পক্ষে মো. খোকন মিয়া প্রকাশ্যে দা উঁচিয়ে চাঁদা উত্তোলনে নামে। এ খবর পেয়ে বালুমহালের ইজারাদার ঘটনাস্থলে গেলে খোকনসহ চাঁদাবাজেরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে দুপুর ১২টায় পুনরায় চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা এসে চাঁদা দাবি করে। বারকি শ্রমিকরা চাঁদা না দিতে অস্বীকৃতি জানালে এ সময় সন্তোষ নামে বারকি শ্রমিককে দা দিয়ে একটি কোপ দিয়ে খোকন দা উঁচিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

বালুমহাল ইজারাদার পক্ষের আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, সরকারি নিয়মে আমরা বালু আহরণ করছি। গত কয়েকদিন থেকে চক্রের সদস্যরা বেআইনি ভাবে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছে। মঙ্গলবার দা উঁচিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনার ভিডিও তারা প্রশাসনের কাছে দিয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।

যোগাযোগ করলে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার মোহাম্মদ বদিউজ্জামান বলেন, চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category