প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা অনেক জেলা শহরের থেকেও আলাদা। বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে এই শহরে গড়ে উঠেছে অনেক উঁচু দালান। শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে বিয়ানীবাজার পৌরসভার বাজেটে রাখা হয় অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ। তারপরও এই শহরের সৌন্দর্য ম্লান করে দিয়েছে সড়কের পাশে অবৈধভাবে দখল হওয়া সবজি বাজাররের কারণে। ফুটপাত দখল হওয়ার পাশাপাশি এখন সড়কের মধ্যখানের ডিভাইডার দখল করে সেখানে ফেলা হয় পচে যাওয়া সমস্ত সবজি। সেই পচা সবজি গুলো খাওয়ার জন্য গরু ছাগল এর দীর্ঘসারি লেগেই থাকে। যার ফলে বিয়ানীবাজার পৌর শহরের সৌন্দর্য যেমন বিনষ্ট হচ্ছে পাশাপাশি যানজট লেগে জনসাধারণের ভোগান্তি বাড়ছে কয়েক গুণ। শহরে আসা অনেকে মজার ছলে বলেই ফেলেন শহরে দখল বানিজ্য এমন একটা পর্যায়ে চলে গেছে যেখানে গরু ছাগলরাও এখন দখলের ভাগ চায়। গরু ছাগলের এমন বিচরণে অতিষ্ঠ শহরে আশা সাধারণ মানুষ। গতকাল সন্ধ্যায় ডিভাইডারের উপর ফেলে রাখা পচা সবজি এবং আবর্জনা খেতে দেখা যায় কয়েকটি গরুকে। এসব গরুর মালিক কে বা কারা সেটা কেউ বলতে পারছেনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যাস্ততম এবং গুরুত্বপূর্ন এই শহরে এসে জনগনের ভোগান্তির মাত্রা দিনকে দিন বাড়ছে। অনিয়ন্ত্রিত ফুটপাথ দখল, অবৈধ গাড়ি স্ট্যান্ড, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং শহরটিকে গড়ে তুলেছে যানজটের শহরে। এতো এতো অবস্থাপনা দেখার যেন কেউ নেই পুরো বিয়ানীবাজার। পৌরশহরে সন্ধা বেলা চোখে ভাসে নিত্যদিনের চিরচেনা তীব্র যানজট। পৌরশহরের যানজটের অন্যতম কারণ ফুটপাথ দখল। হকার থেকে দোকানদার সবাই নিজেদের মতো করে দখলে নিচ্ছে পথচারীদের চলার একমাত্র নির্দিষ্ট স্থানটি। ফলে সাধারণ মানুষকে নেমে যেতে হচ্ছে মূল সড়কে, যা বাড়াচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
শহরের মধ্য বাজারের ডিভাইডারগুলোকেও দখলে নিয়ে ডাস্টবিন হিসেবে ব্যাবহার করছেন সবজি বিক্রেতারা। আর পচে যাওয়া সেসব সবজি খাওয়ার জন্য সেখানে ছুটে আসে গরু এবং ছাগল। দেখে মনে হয় এটি গরু রাখার জন্য কারো ব্যাক্তিগত অস্থায়ী গোয়ালঘর। এতে করে একদিকে ডিভাইডার নোংরা হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস উঠছে পথচারীদের।
আকমল হোসেন রেজা নামের একজন পথচারি বলেন, প্রতি বছর সৌন্দর্য বর্ধন এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য পৌরসভার বরাদ্দ কোথায় যায় সেটাই এখন দেখার বিষয়। এতো টাকা বরাদ্দ রাখার পরেও শহরটি কেমন অপরিস্কার। যেখানে প্রতিদিন ময়লা আবর্জনা খাওয়ার জন্য গরু ছাগলের বিচরণ থাকে। তাহলে পৌরসভার কাজ কি। পৌরসভার কোনো তদারকি নেই বলেই এমন বেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে।
বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মুকিত মোহাম্মদ বলেন, বিয়ানীবাজার পৌর শহরটি এখন দখলের শহর হিসেবে পরিনত হয়েছে। যে যেভাবে পারছে দখল করছে কেউ কিছুই বলছে না। কোনো নিয়মনীতি না মেনে ফুটপাথে দোকানপাট বসানো আর ডিভাইডারে ময়লা ফেলে শহরের সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি ঝুঁকিতে পড়ছে যান চলাচলও। হঠাৎ করে কোনো পশু ছুটে গেলে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনাও। নিত্যদিনের ঘটনা চোখের সামনে দেখার পরেও দায়িত্বশীলরা নীরব দর্শকের মতো বসে আছে।
এ বিষয়ে পৌরসভার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হয়েছে। তবে কিছুদিন পর আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যায়। আমরা শিগগিরই কঠোর ব্যবস্থা নেব।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করা গোলাম মুস্তফা মুন্না বলেন, খুব শীগ্রই শহরে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। যারা ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করছেন তাদেরকে সরিয়ে শহরকে পরিচ্ছন্ন এবং নান্দনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে।