যুক্তরাষ্ট্র–ইরান শান্তি আলোচনার প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানও জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আমরা শান্তিচুক্তির খুব কাছেই আছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী সপ্তাহে শুরু হবে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা।’
তবে ট্রাম্পের মন্তব্যের আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই চুক্তি সইয়ের সময়সূচি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ‘সমঝোতা স্মারক সইয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে এটুকু বলতে পারি, সেটি আগামীকাল (আজ রোববার) হবে না।’
ট্রাম্প পোস্টে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘উপযুক্ত সময়ে, যখন সবকিছু শান্ত হবে, আমরা গিয়ে ওই পারমাণবিক উপাদানগুলো নিয়ে আসব। এরপর সেগুলো ধ্বংস করা হবে।’
পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গবেষণার মতো শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যদি সবকিছু দ্রুত, সহজ ও মসৃণভাবে না হয়, তবে ওয়াশিংটনের হাতে ‘চূড়ান্ত বিকল্প’ রয়েছে, যা তিনি আর কখনো ব্যবহার করতে চান না।
এদিকে গত শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্রুতই একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে আরাগচি বলেন, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাতের অবসান ঘটবে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত থাকছে।
তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরে শুরু হবে বলেও উল্লেখ করেন আরাগচি।
মার্কিন কর্মকর্তারাও চুক্তির কিছু বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তবে তাঁরা বলছেন, অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে হলে ইরানকে চুক্তির শর্ত পূরণ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র এর আগে কয়েকবার বলেছিল, লেবানন হয়তো এ চুক্তির অংশ না–ও হতে পারে। কিন্তু ইরান বরাবরই জোর দিয়ে আসছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং লেবানন সংঘাতকে আলোচনার বাইরে রাখা যাবে না। এ কারণেই চুক্তির চূড়ান্ত রূপ নিয়ে এখনো কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে।
গত কয়েক মাসে একাধিকবার চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বিভিন্ন কারণে তা আর হয়নি।